মগবাজারে রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন: ভাসমান ও গৃহহীন মানুষের দুরবস্থা


joyjatra প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ন / ৩৪ পঠিত
মগবাজারে রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন: ভাসমান ও গৃহহীন মানুষের দুরবস্থা

রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মগবাজার। শত শত গাড়ি আর মানুষের কোলাহলে মুখরিত এই বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ফুটপাত ও রোড ডিভাইডারগুলোতে প্রতিদিন ফুটে ওঠে এক ভিন্ন বাস্তবতার চিত্র। খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার ধুলাবালি ও ময়লার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বহু গৃহহীন ও ভাসমান মানুষ।

সম্প্রতি মগবাজার, নিউ ইস্কাটন রোড ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র

ছবিগুলোতে দেখা যায়, মগবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতিতে শুয়ে আছেন ছিন্নমূল মানুষ:

ফুটপাত ও বন্ধ দোকানের সামনে: মগবাজারের বেশ কিছু শপিং কমপ্লেক্স ও বন্ধ দোকানের সিঁড়ির গোড়ায় খালি জায়গায় কোনো রকম বিছানা ছাড়াই চরম ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় এদের।

বিপজ্জনক রোড ডিভাইডারে: চলন্ত গাড়ির তীব্র শব্দ ও ধোঁয়ার তোয়াক্কা না করে অনেকেই সিমেন্টের শক্ত রোড ডিভাইডারের ওপর সামান্য ছেঁড়া কাঁথা বা কাপড়ে শরীর ঢেকে আশ্রয় নিয়েছেন।

বস্তা ও পলিথিনই সম্বল: তীব্র রোদ বা ধুলোবালি থেকে বাঁচতে অনেকেই স্রেফ একটি প্লাস্টিকের চটের বস্তা গায়ে দিয়ে রাস্তার পাশে শুয়ে আছেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগ

অভাবের তাড়নায় ও নিজস্ব কোনো বাসস্থান না থাকায় এসব মানুষ মৌলিক চাহিদা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা, ড্রেনের দুর্গন্ধ এবং উড়ন্ত ধুলোবালির মধ্যে চব্বিশ ঘণ্টা অবস্থান করায় তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

মৌলিক সুবিধার অভাব: বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় চর্মরোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

আবহাওয়াগত ভোগান্তি: বর্ষার কাদা-পানি কিংবা তীব্র রোদে তাদের দুর্ভোগ চরম রূপ ধারণ করে।

স্থানীয়দের অভিমত ও সমাধান

এলাকার পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মগবাজার ও তার আশপাশের এলাকায় ভাসমান মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনের বেলা তারা বিভিন্ন দিনমজুরি বা ভিক্ষাবৃত্তি করে পেটের ভাত জোগালেও রাতের বেলা আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট জায়গা তাদের নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু এই মানুষদের মানবিক দুর্দশাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে সঠিক পুনর্বাসন না হলে সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

পরামর্শ ও দাবি:

১. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সামাজিক পুনর্বাসন: ছিন্নমূল এসব মানুষের জন্য দ্রুত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

২. জরুরি চিকিৎসা সেবা: স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া দরকার।

৩. কর্মসংস্থানের সুযোগ: সক্ষম ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হবেন।

অসহায় এসব মানুষের মানবিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

রিপোর্টার joyjatra ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
৩৪ পঠিত