কুমিল্লার বিবির বাজারে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র‌্যালি, অভিযানে ১৮ জনের সাজা


joyjatra প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ন / ৩৯ পঠিত
কুমিল্লার বিবির বাজারে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র‌্যালি, অভিযানে ১৮ জনের সাজা

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার উদ্যোগে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের লক্ষ্যে বিবির বাজারে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনকে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ২০২৬ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন ৬ নম্বর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবির বাজার স্কুল মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন এলাকাবাসী অংশ নেন।

বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, যুবসমাজের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে সবাইকে মাদক প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের সমন্বয়েই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় বিবির বাজার এলাকায় একটি মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসাধারণের মাঝে মাদকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেয়। এদিকে একই দিনে কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হক সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে আদালত ২ জনকে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, ১ জনকে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, ৪ জনকে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০ টাকা করে জরিমানা এবং ১ জনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। এছাড়া ৪ জনকে ১ হাজার টাকা করে এবং ৬ জনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৮ জন আসামিকে অল্প সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন মহল কোতয়ালী মডেল থানার এ ধরনের পুলিশিং কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় মাদকের বিস্তার রোধে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং সমাজে আইনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

রিপোর্টার joyjatra ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
৩৯ পঠিত