দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, কমবে খামারিদের ক্ষতি: মন্ত্রী


joyjatra প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ন / ৩২ পঠিত
দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, কমবে খামারিদের ক্ষতি: মন্ত্রী

গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত দেশীয় ভাইরাল এলএসডি ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এ ভ্যাকসিন বাজারজাত হলে খামারিদের ব্যয় কমবে, সহজলভ্যতা বাড়বে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।

শুক্রবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত বিএলআরআই উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন এই চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এখন দেশেই এলএসডি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি খামারিদের উদ্দেশে বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকাদানের বিকল্প নেই। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এলএসডি প্রতিরোধী টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে তা দ্রুত অন্য পশুতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাস চাষের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন এ ঘাসের জাতটিতে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। ফলে খামারিরা কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন এবং দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ জাতের উন্নয়নে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এর আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এর মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণিসম্পদ খামারি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও গোটপক্সের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রিপোর্টার joyjatra ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
৩২ পঠিত

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

আরও খবর