সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


joyjatra প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ন / ৩০ পঠিত
সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। তিনি বলেন, আমাদের সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত, “আমরা সবাই বাংলাদেশী”।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩ উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশী। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, নাগরিক পরিচয়কে সামনে এনে সমঅধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য এবং রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করবে না।

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একসময় কিছু রাজনৈতিক শক্তি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করত। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ সেই কৃত্রিম ধারণা ও রাজনৈতিক মিথ ভেঙে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। জনগণই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বিচারক উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও সব ধরনের অসুর শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সংবিধানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রকে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, দেশের সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সেগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু কাগজে কলমে নয়, বাস্তবেও সাম্য, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

তার ভাষায়, “আজ থেকে আমাদের বলতে হবে, আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।”

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

পরে পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

রিপোর্টার joyjatra ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
৩০ পঠিত

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

আরও খবর