অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: সিফাত কারাগারে, পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে মেলেনি গরমিল


joyjatra প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ন / ৩৩ পঠিত
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: সিফাত কারাগারে, পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে মেলেনি গরমিল

বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার ক্ষোভ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও গালিগালাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে (২৫) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তদন্তে তার বাসায় ভূতুড়ে বা অতিরিক্ত বিল তৈরির কোনো সত্যতা মেলেনি।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় জুলাই মাসে ৫ হাজার টাকা এবং আগস্ট মাসে ৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে—যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সরকার ও দেশের নীতি-নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করেন।
​ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকা থেকে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে আগে দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
​তদন্তে যা পেল পল্লী বিদ্যুৎ
বিল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (বোর্ড বাজার জোনাল অফিস) থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিফাতদের দুই তলা আবাসিক ভবনে মোট তিনটি পৃথক বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করা হয়।
​মিটার ১: মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪ মাসে মোট ৩২০ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ২,৩৫৪ টাকা।
​মিটার ২: একই সময়ে ১,১৩৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ৯,৩৮৭ টাকা (যার মধ্যে জুলাই মাসে ৩,৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২,৩৯৭ টাকা)।
​মিটার ৩: ৪ মাসে ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারে মোট বিল এসেছে ৪,৫৩২ টাকা।
​তিনটি মিটার মিলিয়ে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত তাদের মোট ব্যবহার ছিল ২,০৮০ ইউনিট এবং মোট বিল এসেছে ১৬,২৭৩ টাকা। কেবল জুলাই ও আগস্ট মাস মিলে তিনটি মিটারের মোট বিল দাঁড়ায় ১০,৬৮১ টাকা।
​পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জানান, মিটারের রিডিং এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির হিসেব পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত বা ভুল বিল তৈরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা প্রশাসনিক অনিয়ম ছাড়াই ব্যবহৃত বিদ্যুতের সঠিক বিলই হিসাব করা হয়েছিল।

রিপোর্টার joyjatra ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
৩৩ পঠিত