
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার আদর্শ বাজার–স্যামের ঘাট স্টিল ব্রিজটি এখন স্থানীয়দের কাছে যেন এক ‘মরণফাঁদ’। ব্রিজের চলাচলের অংশে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কালীগঞ্জ, ঠাকুরগঞ্জ, ডাঙ্গারহাট, সুন্দরখাতা, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও খগাখড়িবাড়ি এলাকার মানুষের চিলাহাটি রেল যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পথচারী, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের চলাচলের অংশে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের প্রায়ই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সামান্য অসতর্কতা কিংবা যানবাহনের ভারসাম্য হারালেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
ইজিবাইক চালক শুদেব রায় বলেন, “ব্রিজের গর্তে মাঝে মাঝে ইজিবাইক পড়ে যায়। এতে গাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে আমরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছি। দ্রুত গর্তটি সংস্কার করা দরকার।”
আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, এটা যেন মরণফাঁদ। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকতে হয়। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে ব্রিজটি সংস্কার করা জরুরি।
একই এলাকার বাসী বলেন, “রাতে ব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষক হামিদুল ইসলাম বলেন “প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটির সংস্কার করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার দায় এড়ানো কঠিন হবে।”
সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এলাকাবাসীর যাতায়াতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য এলজিইডি অফিসে কথা বলে প্রয়োজনীয় কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার পরও কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর তৎপরতা দেখানোর পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন,ব্রিজটি নতুন করে সংস্কার করার জন্য কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঊর্ধ্বতন অফিসে কাগজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :