
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান বেগবান করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য নতুন করে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট, ২০২৬) সকালে রাজধানীর রাজারবাগস্থ ‘বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়াম’-এ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত দ্বিতীয় কোয়ার্টারের (এপ্রিল-জুন ২০২৬) ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তথ্যদাতাদের জন্য পুরষ্কারের পুনর্নির্ধারিত হার অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও তথ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার পূর্বের পুরস্কারের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী তথ্যদাতারা এ আর্থিক পুরষ্কার পাবেন:
তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোর দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, কোনো অবস্থাতেই তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হবে না; তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বাতিলকৃত লাইসেন্সের অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতিমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দায়বদ্ধতা ও সময়সীমা নির্ধারণ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর সংস্থায় পরিণত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দমনে ইতোমধ্যেই নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধ দমনে প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় গঠিত বিশেষ ইউনিটের মাধ্যমে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মূল সম্মেলনের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত শোনেন এবং বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) উত্থাপিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
আপনার মতামত লিখুন :