সড়ক নিরাপত্তায় ব্যয়ের সুফল নিশ্চিত করতে হবে: শেখ রবিউল আলম


joyjatra প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ন / ৩৭ পঠিত
সড়ক নিরাপত্তায় ব্যয়ের সুফল নিশ্চিত করতে হবে: শেখ রবিউল আলম

সড়ক নিরাপত্তা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পগুলোর বাস্তব সুফল কতটা অর্জিত হচ্ছে, তার কার্যকর মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করা না গেলে এসব আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দুর্ঘটনার ডাটাবেজ ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ, মহাসড়ক উন্নয়ন ও বড় প্রকল্প পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা কত টাকা ব্যয় করছি, তার হিসাব আছে। কিন্তু অর্জন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। এত ব্যয় করে যা শিখছি, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটি দেখতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। তাই নির্মাণের শুরু থেকেই নিরাপত্তা, মানসম্মত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সময়মতো সংস্কারের বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাস্তা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে আগেভাগেই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে হবে। “রাস্তা পর্যাপ্ত না ভাঙা পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়া হবে না”, এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিভাগের সদস্যদের সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং দায়িত্বে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অর্জিত জ্ঞান দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো যায়।

একই সঙ্গে দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ ধরনের মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, “আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশে খুব ভালো হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় গিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। এই ধারার পরিবর্তন না হলে খুব বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কেবল প্রকৌশলগত বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, প্রকল্পের সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি Crash Data Management System পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, হালনাগাদ ম্যানুয়াল নিয়মিত কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সওজের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধারাবাহিক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মশালায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝ্যাং বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, এডিবি, উন্নয়ন সহযোগী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে নিরাপদ ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও এডিবি বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, এডিবি ও জাপান ফান্ড ফর পোভার্টি রিডাকশনের (জেএফপিআর) অনুদানে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল মেয়াদে সাসেক ঢাকা সিলেট করিডোর প্রকল্পের পাশাপাশি একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা, রোড সেফটি অডিট, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং সওজের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মশালায় এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রিপোর্টার joyjatra ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
৩৭ পঠিত

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

আরও খবর