উদ্ভাবনকে ধারণা থেকে বাজারে নিতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন / ৩৯ পঠিত
উদ্ভাবনকে ধারণা থেকে বাজারে নিতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

জ্ঞানকে সমাধানে, গবেষণাকে পণ্যে, ধারণাকে উদ্যোগে এবং উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্যে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, শুধু উদ্ভাবন সৃষ্টি করলেই হবে না, উদ্ভাবকদের অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি মেলার উদ্বোধন করবেন।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাময় ধারণার কোনো ঘাটতি নেই। দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমাধান তৈরি করছে। তবে এসব উদ্যোগকে একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ সেই সংযোগ তৈরির একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ফাউন্ডারসহ ১০০ জনেরও বেশি উদ্ভাবক এক হাজারেরও বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করবেন। এতে সারা দেশ থেকে ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, কর্পোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা অংশগ্রহণ করবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, উদ্ভাবন কখনোই বিচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হতে পারে না। সরকার, শিক্ষাঙ্গন, শিল্পখাত, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই একটি শক্তিশালী, টেকসই ও বাজারমুখী ইনোভেশন ইকোসিস্টেম তৈরি সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এই মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক, শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা, এসএমই, সেবা প্রদানকারী, স্টার্টআপ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। এর মাধ্যমে উদ্ভাবক, গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবন ও উদ্ভাবকদের জাতির সামনে তুলে ধরা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উদ্ভাবন কীভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, সে বিষয়ে জাতীয় সংলাপ তৈরিতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মেলা পরিদর্শন, উদ্ভাবকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং তাদের উদ্ভাবনের গল্প দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও উদ্ভাবনী, প্রতিযোগিতামূলক ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

### তিন দিনে ১৭টি সেশন

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মেলার জ্ঞান ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিন দিনে ৬টি প্লেনারি সেশন, ৬টি প্যারালাল সেশন এবং ৫টি গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, এসব আলোচনায় নীতিনির্ধারক, থিংক ট্যাংক, শিক্ষাবিদ, শিল্পনেতা, গবেষক, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন, সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির বাস্তবায়ন এবং সেগুলোকে বাজারে নিতে নীতি, বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বাস্তব উপায়।

### গড়ে উঠবে ইনোভেশন হাব

সচিব বলেন, মেলা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই কার্যক্রম শেষ হবে না। বরং মেলায় প্রদর্শিত এক হাজারেরও বেশি উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে একটি সংযুক্ত ‘ইনোভেশন হাব’ গড়ে তোলার সূচনা করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন চিহ্নিত করে সেগুলোর উন্নয়ন, অর্থায়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর মেলার পলিসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) টেকনিক্যাল পার্টনার এবং দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে।

### ১৪টি অগ্রাধিকার খাত

মেলায় মোট ১৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, তথ্য ও ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্পেস ও অ্যারোস্পেস, স্বাস্থ্য ও লাইফ সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স, কৃষি ও খাদ্য প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, জলবায়ু ও পরিবেশ, ফিনটেক, শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি ও মোবিলিটি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্মার্ট সিটি এবং সামাজিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মেলাটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার admin ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
৩৯ পঠিত

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

আরও খবর