
অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর ভয়াল থাবায় জীবন-যৌবন ও সর্বস্ব হারিয়ে অবশেষে এক অভিনব পন্থায় আলোর পথে ফিরলেন খাগড়াছড়ির রামগড়ের সজীব মিয়া। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ডিজিটাল জুয়ার ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হওয়া এই যুবক প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া ও মাদক ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে দূরে থাকার করুণ আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
আজ রামগড় ১ নং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সজীব মিয়া দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো অ্যাপসের নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলেন। জুয়ার দান মেটাতে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ও জমানো সব পুঁজি জলাঞ্জলি দিয়ে একপর্যায়ে তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অবশেষে ভুল বুঝতে পেরে কিছুদিন আগে তিনি এই আত্মঘাতী খেলা চিরতরে বর্জনের পণ করেন। অতীতে করা ভুলের প্রাশ্চিত্ত এবং নিজেকে মানসিকভাবে শুদ্ধ করতেই তিনি ইউপি পরিষদ মাঠে দুধ দিয়ে গোসলের এই পথ বেছে নেন।
”অনলাইন জুয়া মানুষের জীবন শেষ করে দেয়। আমি সাতটি বছর নষ্ট করেছি, লাখ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। আমার মতো আর কেউ যেন এই ফাঁদে পা না দেয়—এই বার্তাটি দিতেই আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নতুন জীবনের অঙ্গীকার করলাম।
সজীব মিয়ার এই অভিনব বার্তা দেওয়ার মুহূর্তটির প্রত্যক্ষদর্শী হন ১নং রামগড় ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল হুদা সহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।সজীবের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত সাহসী এবং সময়োপযোগী। বর্তমানে অনলাইন জুয়া ও মাদক আমাদের যুবসমাজকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। সজীবের এই অনুশোচনা ও সচেতনতামূলক বার্তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এলাকার অন্য পথভ্রষ্ট যুবকরাও জুয়া ও মাদকের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে আশা করি।”
ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অভিনব দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের উপচে পড়া ভিড় জমে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সজীবের এই ব্যতিক্রমী গোসল ও মাদক-জুয়াবিরোধী অবস্থান পুরো এলাকায় ডিজিটাল জুয়ার বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে।
আপনার মতামত লিখুন :