ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী অংশে ধীর সংস্কার, বাড়ছে দুর্ভোগ


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ন / ৩৩ পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী অংশে ধীর সংস্কার, বাড়ছে দুর্ভোগ

ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ধীরগতির সংস্কারকাজ এবং টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে মঙ্গলবার ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যানবাহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমতলীর সৌদিয়া হোটেল এলাকা থেকে নাজিরা বাজার পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আমতলী এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অস্থায়ীভাবে ইট ও বালু ফেলে সংস্কার করা হলেও বৃষ্টির পানিতে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে সংস্কারকাজ চললেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

তিশা পরিবহনের চালক জামাল হোসেন বলেন, “আমতলী অংশে পুরো সড়কই খানাখন্দে ভরা। আগে ঢাকামুখী লেনে যানজট হতো, এখন চট্টগ্রামমুখী লেনেও একই অবস্থা। এতে আমাদের সময় ও জ্বালানি দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”

আমতলীর বাসিন্দা মাধব দাস বলেন, “সকাল ৮টা থেকেই যানজট শুরু হয়। এটা শুধু আজকের নয়, প্রতিদিনই মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।”

সামিয়া অটোর মালিক আব্দুল হান্না স্বপন বলেন, “প্রতিদিন সাংবাদিকরা আসেন, খবর করেন। কিন্তু সড়কের কোনো উন্নতি দেখি না। গতকাল আমার মোটরসাইকেলের সামনের চাকা গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতে ৬৩০ টাকা খরচ হয়েছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?”

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “বৃষ্টির কারণে সৌদিয়া হোটেলের সামনে মহাসড়কে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামমুখী লেনে প্রায় এক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। যানজট নিরসনে সকাল থেকেই হাইওয়ে পুলিশের টিম কাজ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই ওই এলাকায় পুলিশের একটি টিম দায়িত্ব পালন করে।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “বর্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। আপাতত ইটের সলিং করে চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থায়ী সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বর্ষা মৌসুম শেষে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ শুরু হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী সংস্কার নয়, দ্রুত টেকসই সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্থায়ীভাবে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করতে হবে।

রিপোর্টার admin ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
৩৩ পঠিত