অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ


joyjatra প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন / ৩৭ পঠিত
অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের অবকাঠামো, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, এসব খাতে চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।

বৈঠকে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, আবাসন খাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এছাড়া দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তিতে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়ে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁর চীন সফরের সময় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বা পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি আরও বৃদ্ধি করতে চীন আগ্রহী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার joyjatra ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
৩৭ পঠিত